
নিজস্ব প্রতিবেদক // বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে দলিল লেখকদের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলিল লেখক সমিতির একাংশের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর বরিশাল জেলা দলিল লেখক সমিতির অফিস ঘর ভেঙে বিএনপির পরিচয় দিয়ে দখল নিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন দলিল লেখক হান্নান।
অভিযোগ রয়েছে, সমিতির কয়েকজন সদস্যকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর মামলায় জড়িয়ে জেল-জরিমানা এবং ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। প্রতিদিন বহিরাগত লোকজন এনে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সমিতির একাধিক সদস্যের অভিযোগ, হান্নান বর্তমান সভাপতি হিসেবে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশ এনে অফিসে বসিয়ে রাখার ঘটনাও ঘটছে।
এদিকে দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর সাধারণ দলিল লেখকদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও তাদের চাওয়া-পাওয়াকে অবজ্ঞা করে একতরফাভাবে একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠনের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে সাধারণ দলিল লেখকদের ভোটাধিকার হরণ করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অবাধ, নিরপেক্ষ ও সর্বদলীয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। সেই বাস্তবতায় দলিল লেখক সমিতির ক্ষেত্রেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হওয়া উচিত। তার দাবি, সাধারণ দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে বারবার সমাজসেবা অধিদপ্তরে লিখিতভাবে নির্বাচনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। বরং নির্বাচন প্রক্রিয়া এড়িয়ে আগামী ১৫ তারিখ সমাজসেবা কার্যালয়ে সকল দলিল লেখককে ডেকে একতরফাভাবে একটি নতুন কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে ঢাকার নিবন্ধন অধিদপ্তরে, যেখান থেকে দলিল লেখকদের লাইসেন্স প্রদান করা হয়, সেখানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি বরিশাল জেলা রেজিস্টারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, হান্নানের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক দলিল লেখক এখন আর নিয়মিত অফিসে আসছেন না। বহিরাগত লোকজন এনে জীবননাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক হান্নানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরেও আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকরা।
Leave a Reply