1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. admin@zzna.ru : admin@zzna.ru :
  3. sarderamun830@gmail.com : Sarder Alamin : Alamin Sarder
  4. wordpUser10@org.com : supe1User10 :
  5. wpsupp-user@word.com : wp-needuser : wp-needuser
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা: জামায়াত আমির

  • প্রকাশিত : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ 0 সংবাদ টি পড়েছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক // জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কুড়িগ্রাম জেলা দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ। এই পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। আমার কাছে দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। এখানে ( কুড়িগ্রামকে)কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব আমরা। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবেন। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মনি মুক্তায় ভরিয়ে দেয়।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১দলীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। এই নদী গুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট সব চুরি করা হয়েছে। ২৮ লক্ষ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব।’

তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আর বিভক্তি নয়। আমরা কোনো দলীয় রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই না। এ বিজয়ে আমি তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে গণ-জোয়ার দেখছি। আমরা দেশে আধিপত্যবাদীদের ক্ষমতা দেখতে চাই না, আমরা চাই সমতা থাকুক বাংলাদেশে।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রংপুরের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছে, অধিকার দাও, না হলে গুলি। সাঈদ বুকে তিন তিনটি গুলি নিয়েছে বীরের মতো। এখান থেকে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১৪শ শহীদ হয়েছে। এদের রক্তে নদীগুলো লাল হয়েছে। আমরা এ রক্তের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করব না। তারা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।’

তিনি একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তারা নারীদের গায়ে, মা বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। তারা হুমকি দিচ্ছেন কাপড় খুলে নিবেন। তারা বলছেন, হিজাব পড়ে আসলে খুলে ফেলো, তাদের যেখানে পাও ঠেকিয়ে দাও। লজ্জা লজ্জা। এরা কি মায়ের পেট থেকে আসে নাই? তাহলে মায়ের জাতের গায়ে হাত দেয় কীভাবে? আপনারা ভয় পাবেন না। চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন। এটি আমার বাংলাদেশ, আপনাদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোনো জমিদার মেনে নেব না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ। আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি, এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চত করা হবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে এদেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না। আপনাদের রাস্তাঘাট, কর্মস্থল সব জায়গায় কতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করব। যে দেশে মায়েদের কোনো নিরাপত্তা নেই। সে দেশ আমার হতে পারে না। আমরা জাতি ধর্ম দেখব না। সব ধর্মের নারীদের সম্মান করা আমাদের বড় দায়িত্ব।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এখন একটি গুষ্টি আমার পিছনে লেগেছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালায় দিছে। আর অমনি একটা দল ঝাপিয়ে পড়ে তাইরে নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা, ওদের চুনোপুঁটি তো গাইলো বটে তাদের বড় বড় মাথা গুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তারা পেরে উঠতে পারেনি, আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে গলা টিপে ধরেছে, সত্য কখনো ধামাচাপা দেওয়া যায় না। ইতিমধ্যে মেইন কালপিটকে গতকাল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা তাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না।’

তরুণ ও যুবক ভোটারদের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুবকদের হাতে অপমান জনক বেকার ভাতা তুলে দেবেন। যুবকদের সব গুলো হাতকে শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে শক্তিশালী করব। তাদের ন্যায্য পাওনাগুলো হাতে তুলে দিয়ে বলব, এগিয়ে যাও এ দেশ তোমাদের। তোমরা বিমানের ককপিঠে বসো। আমরা বসবো প্যাসেঞ্জার সিটে। সেই গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এই সমাজের চাবি এবং নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে আমরা পেছন থেকে তোমাদেরকে শক্তি ও সাহস যোগাব। তোমাদেরকে সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়ে যাব।’

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে অন্যতম নির্যাতিত মজলুম দল এই জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করেনি।’

তিনি বলেন, ‘কোনো চান্দাবাজ-বাটপারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে থাকবে না। দলীয়ভাবে আমরা কোনো প্রতিশোধ নেব না। এছাড়া কোনো মামলা বাণিজ্য করব না।’

কুড়িগ্রাম -৪ ( চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপর সেতু করে এই তিন উপজেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম -৩(উলিপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, ‘দুর্নীতির কারণে দীর্ঘ ৫৪ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলাম। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব আমরা।’

কুড়িগ্রাম -১ ( নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে এ জনপদে শিল্প-কলকারখানা তৈরি করে বেকারত্ব সমস্যা সমাধান করব।’

কুড়িগ্রাম -২ ( কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি উপজেলা) আসনের এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান বলেন, ‘কুড়িগ্রাম রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের কারণে পিছিয়ে পড়া জনপদ। আর পিছিয়ে থাকতে চাই না। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের বঞ্চনা দূর করতে চাই। দুর্নীতি আর চাঁদাবাজির রাজনীতি পরিহার করে কর্মসংস্থানের রাজনীতি করতে চাই। নদীর বাঁধ নির্মাণ এবং চরাঞ্চলের উন্নয়নের কাজ করতে চাই।’

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে হ্যা, তারপর হবে সরকার গঠনের ভোট। কোথাও আমরা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। দেশে কোন চাঁদাবাজি ছিনতাই রাহাজানি থাকবে না, সব সিন্ডিকেট ভেঙে আমরা চুরমার করে দেবো। হ্যা ভোট হলো আজাদী আর না হলো গোলামী। আমরা ইনসাফ ভিত্তিক মানবিক রাজনীতি করতে চাই।’

এ সময় প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম -১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম -৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতিক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমানেকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপনের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, সহ সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ, শাহজালাল হক সবুজ, জেলা বায়তুল মাল সম্পাদক জহরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া, খেলাফত মজলিস রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সবেবর মিয়া প্রমুখ।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ