
কর্মজীবী নারীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সেজন্য সরকার গঠন করতে পারলে সান্ধ্য বাস চালুর আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে জনসভায় বক্তব্য এ কথা বলেন তিনি।
বর্তমানে নারীদের জন্য দুটি জিনিস নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, একটি হচ্ছে তাদের নিরাপত্তা, আরেকটি হচ্ছে তাদের সম্মান বা মর্যাদা। আমরা কথা দিচ্ছি ঘরে, চলাচলে এবং কর্মস্থলে—তিনটা জায়গায় আপনাদের জন্য আমরা ইনশাআল্লাহ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব এবং মর্যাদা আপনাদের হাতে তুলে দেব। কোনো জালিম আপনাদেরকে আর ইভটিজিং করার দুঃসাহস দেখাবে না। কর্মক্ষেত্রে কোনোভাবেই আপনাদেরকে আর হেনস্তার শিকার হতে হবে না। মর্যাদা এবং নিরাপত্তার সাথে আপনারা করবেন। চলাচলের সময় বিশেষ করে পিক আওয়ারে বড় শহরগুলোতে রাজধানীসহ আমরা শুধু মহিলাদের জন্য ইভনিং বাস সার্ভিস চালু করব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, পুরুষরা হাঁটতে পারবে, সাইকেল চালাতে পারবে, বাইক চালাতে পারবে, তারা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ঠেলাঠেলি করে উঠতে পারবে; কিন্তু আমাদের মায়ের মর্যাদা আমাদের জীবনের চেয়ে বেশি। আমরা চাই না. আমাদের মায়েরা ওইরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ুক। তাদের জন্য মর্যাদার সাথে চলাচলের ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ করে দেওয়া হবে। সরকারি যে সমস্ত ডাবল ডেকার বাস আছে একটা তলা অর্থাৎ নিচ তলা, মায়েরা উপরে উঠতে গিয়ে কষ্ট হতে পারে, বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। নিচ তলাটা তাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমির বলেন, পুরুষরা কষ্ট করে আমরা উপরের তলায় বসব—কোনো অসুবিধা নেই। জায়গা না পাই হাঁটব, রিকশায় চড়ব, বাইক চালাব তাও মায়েদেরকে আমাদের মর্যাদা দেখাতে হবে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গভীরভাবে বিশ্বাস করি, কলিজা দিয়ে বিশ্বাস করি—আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মর্যাদা বেশি।
শফিকুর রহমান বলেন, একটা পরিবার যেমন নারী পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে একটা দেশ এবং সমাজও নারী পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এই এক অংশকে উপেক্ষা করে আরেক অংশকে নিয়ে দেশকে সমৃদ্ধশালী করা সম্ভব নয়। এখন বলবেন আমাদের মায়েরা কি ঘরের বাইরে কাজ করবেন? হ্যাঁ অবশ্যই করবেন। বলবেন কেন? বলা তো হয়েছে ঘর তাদের জন্য মূল জায়গা। আমি যদি প্রশ্ন করি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেকটি ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধে আমাদের মায়েদেরকে শরিক করেছেন যোদ্ধা হিসেবে; আমি কে আমার মাকে সমাজের খেদমত থেকে বঞ্চিত রাখার? যুদ্ধের চাইতে কোনো কঠিন কাজ আসমানের নিচে এবং জমিনের উপরে নাই।
যুবাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের যুবক বন্ধুদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। আমরা আমাদের যুবক বন্ধুদের আমাদের ছেলে-মেয়েদের হাতকে বাংলাদেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই। কারিগরের হাত কারো দয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে না। কারিগরের হাত নিজেই কিছু করে দেশকে উপহার দেয়। আমরা আমাদের যুবক-যুবতীদেরকে সেই সম্মানের জায়গায় মর্যাদার জায়গায় নিতে চাই। বেকার ভাতা দিয়ে বেকার বানাবো না, বরং বেকারকে কেমনে কর্মউপযোগী করা যায় তাই চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
Leave a Reply