
আন্তর্জাতিক ডেস্ক // মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর ও সাবাহ রাজ্যে অভিবাসন বিভাগের পৃথক অভিযানে বাংলাদেশিসহ মোট ৭৭ জন প্রবাসীকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, গত বুধবার ও সপ্তাহের শুরুতে পরিচালিত এসব অভিযানে অবৈধভাবে অবস্থান ও কর্মসংস্থানের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সেলাঙ্গর রাজ্যের তেলোক পাংলিমা গারাং এলাকার একটি পাম অয়েল বাগানের ভেতরে অত্যন্ত গোপনে পরিচালিত একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে ৯ জন বাংলাদেশিসহ ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সাবাহ রাজ্যে পরিচালিত দুই দিনব্যাপী অপর এক অভিযানে ৫৩ জন ফিলিপাইনের নাগরিককে আটক করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সেলাঙ্গর রাজ্যের অভিযানটি গত বুধবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে অভিবাসন বিভাগের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান শাখা পরিচালনা করে। অভিবাসন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, পাম অয়েল বাগানের ভেতরে কোনো সাইনবোর্ড ছাড়াই একটি দুর্গম গুদামে চীন থেকে আসা পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও মোড়কজাত করার কাজ চলছিল।
আটকদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি ছাড়াও চীনের ২ জন, ভারতের ২ জন, মিয়ানমারের ১০ জন এবং কম্বোডিয়ার ১ জন নাগরিক রয়েছেন। তদন্তে দেখা গেছে, আটক বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজন তাদের ভিসার নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করছিলেন এবং বাকিদের কাছে কোনো বৈধ নথি ছিল না। এই অভিযানে ব্যবহৃত একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িসহ বেশ কিছু বাংলাদেশি ও মিয়ানমারি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, অনলাইনে অর্ডার করা চীনা পণ্য সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পাঠানোর জন্য এই গোপন গুদামটি গত ছয় মাস ধরে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে বাগানের ভেতরে নির্জন স্থানে এই কার্যক্রম চালানো হতো।
এই ঘটনায় আটক এক চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে ওয়ার্ক পারমিটবিহীন বিদেশিদের কাজে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ১৯৬৩-এর বিধির বিভিন্ন ধারায় তদন্তের জন্য পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন অফিসে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজন স্থানীয় মালয়েশিয়ান নাগরিককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাবাহ রাজ্যের কোটা কিনাবালু ও তুয়ারান এলাকায় ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি ‘অপস কুটিপ’ ও ‘অপস সাপু’ নামক অভিযানে আরও ৫৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে ৬১ জন অভিবাসন কর্মকর্তা মোট ১৭৭ জনকে তল্লাশি করেন, যার মধ্যে ৫৩ জন ফিলিপাইনের নাগরিকের কাছে বৈধ কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
সাবাহ রাজ্য অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে যে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে বসবাসরতদের শনাক্ত করতে দেশটির প্রতিটি রাজ্যে বর্তমানে বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply