
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন শ্রমিক। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর লালুয়া অংশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল টিয়াখালী ইউনিয়নের অঞ্জুপাড়া গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে। আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক সেতুর ওপরে লোহার সাটারের ওপর বসে রড বাঁধাইয়ের কাজ করছিলেন। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ সাটার ধরে রাখা চেইন ছিঁড়ে গেলে শ্রমিকসহ বিশাল লোহার কাঠামোটি নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকের বক্তব্য
আহতদের অবস্থা সম্পর্কে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী জানান, হাসপাতালে চারজন শ্রমিককে আনা হয়েছিল, যার মধ্যে রাসেল নামে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহতদের মধ্যে রঞ্জু ও রকিবুল নামের দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সেবাচিম) পাঠানো হয়েছে। অন্য একজনকে কলাপাড়া হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে এ বি এম মোশারফ হোসেন
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কলাপাড়া হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতা এবিএম মোশারফ হোসেন। তিনি সেখানে মৃত শ্রমিকের পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং চিকিৎসাধীন আহতদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ
পায়রা বন্দরের সিক্সলেন সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ১১৮০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করছে চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্টিটিউশন কর্পোরেশন (সিসিইসিসি)। ২০২৪ সালের মার্চে কাজ শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নিরাপত্তা সরঞ্জামে ব্যাপক ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ করেছেন কর্মরত শ্রমিকরা।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
Leave a Reply