
অনলাইন ডেস্ক
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের এক নেতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের একটি ফেসবুক পেইজে যুলফিকার মাহমুদ নামের একটি আইডি থেকে একটি বাসায় দু’জনের ছবি সংযুক্ত করে পোষ্ট করা হয়েছে। যা নিয়ে রীতিমত রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফেসবুকে দেয়া সেই পোষ্টে জনৈক এক নারী নিয়ে বদ্ধরুমে নারীসহ আটক এমন বিষয়টি আখ্যা দিয়েছেন ঐ ব্যক্তি। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ওয়ালিদ বিন সালাহ উদ্দিন। তিনি নগর ছাত্রদলের প্রকাশনা সম্পাদক বলে জানা গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আপনার বাসা কোথায়? এই মেয়ে আপনার কি হয়? জবাবে তিনি বলেন, আমার কাজীন, তবে কি কারণে এসেছেন, এমন উত্তরে তিনি, কারণ জানিয়েছেন তবে ভিডিওতে সেটি অস্পষ্ট ভাবে শোনা গেছে। বাসা কোথায় উত্তোরে ওয়ালিদ জানান, কাজীপাড়া খান সড়ক।
এদিকে পোস্ট করা ঐ ব্যক্তি লিখেন- সরকারি বিএম কলেজ ছাত্রদল নেতা ও বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের প্রকাশনা সম্পাদক ওয়ালিদ বদ্ধরুমে নারীসহ জনতার হাতে আটকের ভিডিও ভাইরাল। ছাত্রদলের বিরোধী কারো দরকার নেই, ছাত্রদলের সকল অপকর্মে প্রকাশের জন্য তারা নিজেরাই যথেষ্ট কারন সবাই সবার দূর্বল যায়গা জানে! সবার কাছে সবার অপকর্মের ফিরিস্তি থাকে হিসেবে না মিললেই সবকিছু সামনে চলে আসে, বিষয়টা ইন্টারেস্টিং। আর এই পোস্টটি মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এনিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী জানান, একজন পদধারী নেতাকে নিয়ে এমন ঘটনা কাম্য নয়। এতে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়। বিষয়টি উর্ধতন নেতাদের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এদিকে ঘটনার পরপরই নগর ছাত্রদলের প্যাডে একটি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সেখানে দপ্তর সম্পাদক যোবায়ের হোসেন নিয়ন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রদল নেতা ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিনকে জড়িয়ে পরিকল্পিত মিথ্যাচার ও চরিত্রহননের অপপ্রচারের প্রতিবাদ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রদলের একজন সাহসী, আদর্শবাদী ও জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন-কে কেন্দ্র করে একটি পুরনো ভিডিও বিকৃতভাবে প্রচারের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্মানহানির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুই বছর পূর্বের একটি ঘটনা থেকে চিত্র কেটে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত একটি মহল।
ঘটনার প্রকৃত সত্য হলো-যে মেয়েটিকে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন-এর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, তার কাজিন এবং একই বিভাগের সহপাঠী। তার বড় বোনের অনুরোধে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সামান্য আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে তিনি স্বাভাবিকভাবেই ওই বাসার সামনে উপস্থিত হন। এই প্রেক্ষাপটকে বিতর্কিত করার ঘৃণ্য চেষ্টায় জড়িত স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতিকারী, যারা সেদিনও ঘটনাস্থলে উসকানিমূলক আচরণ করেছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি স্পষ্ট হলে তারা ক্ষমাও প্রার্থনা করে। যার ফলে তখন কোন আইন গত ব্যাবস্থা নেয়া হয়নি। এই দীর্ঘ সময় পর পুরনো একটি ভিডিওকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেটে ছড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে একজন সংগ্রামী ছাত্রনেতার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ন্যক্কারজনক। এই ঘটনায় ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন ও তার পরিবারকে নিয়ে নোংরা ট্রল ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে একটি অপশক্তি। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। যারা এই ঘৃণ্য অপপ্রচারে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে।
এই ষড়যন্ত্র শুধু একজন ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে নয়, এটি আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির ওপরও আঘাত। ছাত্রদল সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে, এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে যোবায়েরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।
এদিকে এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জোবায়ের হোসেন নিয়ন জানান, আমিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তবে সত্যতা পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply