
অনলাইন ডেস্ক
বরিশালে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ৪ জনকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (২৩ এপ্রিল) নগরীর ৭ নং ওয়ার্ডস্থ কাউনিয়া সাবান ফ্যাক্টরি এলাকায় সন্ধ্যা ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ঐ এলাকার জামসেদ সিকদারের স্ত্রী সাদিয়া (২৪), মিতুলের স্ত্রী লামিয়া ইসলাম ত্বোহা (২১), রফিকের স্ত্রী তামান্না সিকদার মুনা (২৬), মিলন সিকদারের স্ত্রী সালমা বেগম (৩৫)। হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজন মেহেদী হাসান।
আসামীরা হলেন স্থানীয় আব্দুর রশিদের ছেলে রফিকুল ইসলাম মনির, -মৃত মান্নান হাওলাদারের ছেলে আফজাল হাওলাদার, মনিরের ছেলে মুকিতুল ইসলাম নিবির ও আব্দুর রশিদের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাবুসহ অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জন।
অভিযোগে মেহেদী জানান, আসামিদের সাথে আমাদের জমি-জমা নিয়ে পুর্ব বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে আসামি মনির সম্পর্কে আমার বড় বোনের স্বামী। এছাড়া অন্যান্যরা আমাদের নিকটাত্নীয়। তারা বিভিন্ন সময়ে আমাদের জমি দখলের পাঁয়তারা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ এপ্রিল সন্ধায় বাজার করার জন্য আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সাদিয়া আসামি মনিরের দোকানের সামনে পৌছালে পুর্ব-পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালায় আসামিরা। এর মধ্যে আফজাল তাকে আঘাত করলে তার নাকে গুরুত্বর জখম হয়।
তিনি আরও জানান, সাদিয়ার ডাক- চিৎকারে মোনা ও ত্বোহা ছুটে আসলে তাদের ওপরও হামলা চালায় তারা। আসামিরা তাদের বিভিন্ন অংশে পিটিয়ে আহত করে। মারধরের পর সাদিয়া ও মোনার সাথে থাকা স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। যাহার আনুমানিক মুল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা।
মেহেদি জানান, এসময় স্থানীয়রা ছুটে আসলে আসামিরা প্রাণ-নাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এদিকে গুরুত্বর আহত সাদিয়া ও মুনাকে তাৎক্ষনিক উদ্বার করে শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন তারা।
তিনি বলেন, আমাদের দমাতে এর আগে আগে বরিশালের বিজ্ঞ আদালতে ৫টি মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছে আসামীরা। তারা স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম খোকনের অনুসারী। আওয়ামী লীগের সময়ে এর আগেও তারা আমাদের জমি দখলের বিভিন্নভাবে হয়রানী ও হামলা চালিয়েছে। যার ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে আহত সাদিয়া জানান, আসামিরা বিভিন্ন সময়ে আমাদের হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে আসছি। আর আগেও তারা আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমি দখলের পাঁয়তারা চালায়। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মনিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। এদিকে জানা গেছে, হামলায় উভয় পক্ষ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এ-বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুন নিশাত জানান, অভিযোগ পেলে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply