নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– এ যেন আরেক অসীম কল্লোল।বরিশাল সাব-রেজিস্টার অফিসে পিয়নের চাকুরি করে বনে গেছেন কোটপতি।বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী (পিয়ন) জাহাঙ্গীর হোসেন ভুঁইয়া সামান্য পিয়ন পদে চাকরি করেই অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
দুর্নীতির মাধ্যমে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। সদর উপজেলার চরবদনা মৌজায় তার স্ত্রী নাছিমা বেগমের নামে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৪২ শতাংশ জমি ছেলেদের নামে কর্নকাঠি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশে ১ কোটি টাকা মূল্যের ১৯ শতক জমি এবং মেয়েদের নামে শায়েস্তাবাদ সুরভী কোম্পানির মাছের ঘেরের পাশে ৪০ লাখ টাকার মূল্যের ৭০ শতক জমি এছাড়া পশুরী কাঠী ও চরহোগলা মৌজায় একাধিক জমি ক্রয় করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রাসেল জানান তার বিরুদ্ধে সোমবার (৮ জুলাই) দুনীতি দমন কমিশন (দুদক)বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি সদর উপজেলার পশুরী কাঠি এলাকায় । তিনি ওই এলাকার মৃত আলতাফ উদ্দিন ভুঁইয়ার ছেলে। জানা গেছে,প্রায় ২৯ বছর আগে বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পিয়ন পদে চাকরি পান তিনি ।এরপর থেকেই কোটিপতির বনে যান তিনি।
খবির খান নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান বর্তমানে তার নিজ এলাকায় পশুরীকাঠিতে গড়ে তুলেছেন ক্যাডার বাহিনী। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। সম্প্রতি চরমোনাই ফেরিঘাটের সাথে ২১ শতাংশ জমিতে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলে।
মোখলেসুর রহমান জানান বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী (পিয়ন) জাহাঙ্গীর অবৈধ ভাবে টাকা আয় করে এখন সড়ক ও জনপথের জমি দখলের মিশনে নেমেছে।আমরা সড়ক ও জনপথের জমিতে দোকান করি এখন সে তার পাশের জমিতে ঘরের কাজ শুরু করেছে।সেই জমির সাথে সড়ক ও জনপথের জমি দখলের জন্য বালু দিয়ে ভরাট করে আমাদের উচ্ছ্যেদ করে সব জমি দখলের পায়তারা চালাচ্ছে জাহাঙ্গীর।
তার জমির সাথে সড়ক বিভাগের জমিতে কিছু স্টল রয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ করে সেই জমিও নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এসব কাজে তাকে টাকার বিনিময়ে সহযোগিতা করছে স্থানীয় কিছু ক্যাডার বাহিনী। ফেরিঘাট এলাকার মুদী ব্যবসায়ী খবির খান,রাসেল মোল্লা, মোখলেসুর রহমান, শাহ আলম খান,ফারুক হোসেন খান,রাজ্জাক সিকদার বলেন,আমরা ১৩ বছর ধরে সড়ক ও জনপদের জমিতে দোকান চালিয়ে এসেছি।
কিছুদিন আগে পিয়ন জাহাঙ্গীর সড়ক ও জনপদের জমির পাশে ২১ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা শুরু করেছে।আমাদের দোকান সরকারি জমিতে সরকারের যখন জমির প্রয়োজন হবে তখন আমরা জমি ছেড়ে দিবো।
কিন্তু জাহাঙ্গীর সরকারি জমি থেকে আমাদের দোকান উচ্ছেদ করে নিজের দখলে নেওয়ার জন্য আমাদের হুমকি দিয়ে আসছেন।
এছাড়া আমাদের দোকানের চারপাশ আটকিয়ে রাখছে। এতো টাকার উৎস কোথায় জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন ভুঁইয়া বলেন,টাকা সব অন্য মানুষের এই বলে ক্যামেরার সামনে থেকে চলে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অফিস সহকারী (পিয়ন) জাহাঙ্গীর জানান সব কিছু মানুষের কাছ থেকে ধার করা।তার পরিবারের নামে জমির বিষয়ে জানতে চাইলে কোন মন্তব্য না করে চলে যান।
জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ মোহছেন মিয়া জানান,জাহাঙ্গীর হোসেনের সম্পদের বিষয় আমার জানা নেই। দুনীতি দমন কমিশনে অভিযোগ হলে তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবে।
Leave a Reply