
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল // বরিশাল নগরীর কালীবাড়ী রোড এলাকায় বাবার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল রায় লড়ছেন মোহাম্মদ তানভীর আল কাদরী। পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মোঃ আলী আজগরের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক রাস্তা দাবি, হয়রানি ও মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই নজরুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিরোধীয় জমির ওপর সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ তানভীর আল কাদরী বলেন, “এটা আমার বাবার শেষ সম্বল। আমি অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ। আমার প্রতিবেশী আলী আজগর জোরপূর্বক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে রাস্তা চায়। অথচ আমার বাড়ির পর আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাদের সম্পত্তি ও আমাদের সম্পত্তির মাঝে সীমানা প্রাচীরও রয়েছে। এরপরেও সে রাস্তা দাবি করছে। আমি তার কাছে জানতে চাইলে বলে, হাওয়া খাওয়ার জন্য ওপাশে যাবে। কিন্তু আমার জমির মধ্যে আলী আজগর কোনো জমি পাবে না। আমার জমির সকল বৈধ কাগজ আছে।
এ বিষয়ে আলী আজগরের প্রতিবেশী মোজাম্মেল হোসেন শাহ আলম বলেন, “আলী আজগর সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তানভীরের জায়গার ওপর দিয়ে রাস্তা দাবি করছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক শফিউল্লাহ’র স্ত্রী মুকুল বেগম বলেন, “তানভীর তার শেষ সম্বলের ওপর ছোট একটি ঘর নির্মাণ করছে। আমরা প্রতিবেশীরা তাকে সহযোগিতা করছি। কিন্তু আলী আজগর জোরপূর্বক তার বাড়ির ওপর দিয়ে রাস্তা দাবি করছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়।”
আরেক প্রতিবেশী রেজাউল রহমান সিরাজ বলেন, “আলী আজগর দীর্ঘদিন ধরে বিনা কারণে তানভীরদের মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানি করছে। এসব মামলা মিথ্যা। আলী আজগর যে রাস্তা দিয়ে চলাচল করে, সেই রাস্তার মালিকও তানভীর।”
অপর প্রতিবেশী এবং আলী আজগরের বড় ভাই মৃত মোহাম্মদ টগরের মেয়ে টিনা অভিযোগ করে বলেন, “আলী আজগর আমাদের জমিও ঠকিয়ে নিয়েছে। তিনি অত্যন্ত খারাপ মানুষ। তাই আমরা তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখি না। এখন তিনি জোর করে তানভীরের জমিও আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।”
এ বিষয়ে আলী আজগরের ছোট ভাই মনির হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, “তিনি আমাদের জমিও অবৈধভাবে দখল করেছেন। এখন তানভীরের সম্পত্তিও দখল করতে চান।”
স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ওই বৈঠকে সালিশদার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মসজিদের মোতাওয়াল্লি মোঃ শফিউর রহমান জামাল। তবে অভিযোগ রয়েছে, আলী আজগর সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করেন এবং তাকে না জানিয়েই মামলায় সাী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।
এ বিষয়ে শফিউর রহমান জামাল বলেন, “আমাকে না জানিয়ে সাী রাখা হয়েছে, এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। আমি এ বিষয়ে আইনি পদপে নেব। আমরা জানি, এই জমির বৈধ মালিক তানভীর এবং তার কাছে জমির সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট পগুলোর সম্মতিতে গঠিত শালিস বোর্ড সরেজমিন তদন্ত ও সার্ভেয়ার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত নকশার ভিত্তিতে বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা ও চলাচলের রাস্তা নির্ধারণ করে রোয়েদাদ প্রদান করা হয়েছিল। শালিসে নিয়োগপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার মোঃ আরিফুর রহমান সোহাগ সরেজমিন পরিদর্শন ও খতিয়ান যাচাই শেষে একটি কলমী নকশা প্রস্তুত করেন। ওই নকশার ভিত্তিতে প্রথম পকে ০৩৯০ সহস্রাংশ, দ্বিতীয় পকে ০৪৭৮ সহস্রাংশ এবং তৃতীয় পকে ১১৬৬ সহস্রাংশ জমি প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়।
একইসঙ্গে দ্বিতীয় পরে অংশ থেকে ২৮ ফুট দ্ধ ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি জায়গা রাস্তা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মও চলাচল করতে পারবে। সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো প এ রাস্তা ব্যবহারে বাধা দিলে অন্য প আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
রোয়েদাদে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পগুলোর পূর্বের সব অমীমাংসিত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য হবে। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রস্তুতকৃত সার্ভেয়ার নকশাকে শালিস রোয়েদাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পরেও আলি আজগর এ সিদ্ধান্ত অমান্য করে। পরে তিনি ১৪৪ ধারয়া এবং পরে ১৮৮ ধারায় একটি মামলা করেন।
Leave a Reply