
আন্তর্জাতিক ডেস্ক // ইরানকে একটি চু্ক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ফের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।
ইরান যদি এই সময়সীমার মধ্যে একটি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় বা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তাহলে দেশটিতে আরও তীব্র হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, “স্মরণ করুন যখন আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে- তাদের ওপর নরক নেমে আসার আগে ৪৮ ঘণ্টা আছে। ঈশ্বরের গৌরব হোক!”
৬ এপ্রিল, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় রাত ৮টায় এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন। একবার কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোমা মেরে ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন।
ইরানে পরপর যুক্তরাষ্ট্রে দুটি সামরিক বিমান ধ্বংস হওয়া ও এক জীবিত ক্রুর দেশটিতে নিখোঁজ হওয়া নিয়ে চাপে পড়েছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রবেশ করলেও শান্তি আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না আর জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনসমর্থন হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের নেতৃবৃন্দ অনমনীয় মনোভাব দেখিয়ে আসছেন। এরমধ্যেই শনিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য নীতিগতভাবে দরজা খোলা রাখলেও ট্রাম্পের দাবির কাছে নতি স্বীকার করার বিষয়ে তেহরানের ইচ্ছার কোনো ইঙ্গিত দেননি।
সামাজিক মাধ্যম এক্স এ তিনি বলেন, “তাদের প্রচেষ্টার জন্য আমরা পাকিস্তানের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা আমরা কখনো অস্বীকার করিনি। আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অবৈধ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী অবসানের শর্তাবলী নিয়েই শুধু আমরা ভাবিত।”
এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে আর এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply