
বিশেষ প্রতিনিধি // বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের দড়িচর খাজুরিয়া ও চরএককরিয়া মৌজার ১৭০ একর বালুচরের জমিতে তরমুজ চাষকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই দুই মৌজায় ২৫ জন প্রকৃত মালিকের মোট ১৭০ একর জমি রয়েছে। মালিকরা তাদের জমি তরমুজ চাষের জন্য বৈধভাবে লগ্নি দিয়েছেন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ ওরফে রিপন খানকে।
এ বিষয়ে বৈধ লগ্নিকারী মাসুদ ওরফে রিপন খান বলেন, ওখানে আমার পৈত্রিক সম্পত্তি সাড়ে ৪ একর। এছাড়াও আমি টাকা দিয়ে প্রকৃত জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি লগ্নি নিয়েছি। একটা প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে আমাকে চাষাবাদে বাধা দিচ্ছেন। তারা অন্যায়ভাবে এবং শক্তি দিয়ে জমির মালিক সেজে অন্যের কাছে লগ্নি রেখেছেন। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
জমির মালিকদের বক্তব্য:
জমির মালিকরা তাদের বক্তব্যে জানান, তারা অন্য কারো কাছে জমি লগ্নি দেননি।
· সবুজ মাতাব্বর বলেন, আমার ১০ একর জমি মাসুদ ওরফে রিপন খানের কাছে লগ্নি দিয়েছি।
· আঃ রব ব্যাপারী বলেন, আমার ১০.৪০ একর (সাড়ে ৬ কানি),
· নাসির রাঢ়ী বলেন, আমার ১২ একর (সাড়ে ৭ কানি),
· লালু ব্যাপারী বলেন, আমার ২২.৪০ একর (১৪ কানি),
· ইমরান হোসেন বলেন, আমার ৬.৪০ একর (৪ কানি),
· আহম্মদ হাওলাদার বলেন, আমার ১০.৪০ একর (সাড়ে ৬ কানি),
· রহিম খলিফা বলেন, আমার ৩.২০ একর (২ কানি),
· মন্নান রাঢ়ী বলেন, আমার ৬.৪০ একর (৪ কানি),
· জসিম খলিফা বলেন, আমার ৩.২০ একর (২ কানি),
· আমির খলিফা বলেন, আমার ২.৮০ একর (পৌনে ২ কানি),
· সামছু সরদার বলেন, আমার ৫.৬০ একর (সাড়ে ৩ কানি),
· সামছু হাওলাদার বলেন, আমার ৮.৮০ একর (সাড়ে ৫ কানি) জমি মাসুদ ওরফে রিপন খানকে লগ্নি দিয়েছি।
অন্য মালিকরা বলেন, “আমরা সবাই মিলা দিছি, ৩-৪ একর করে সবাই মিলে ১৬০-১৭০ একর হবে। ৫-৭ বছর ধরে মাসুদ খান ওরফে রিপনরে দিয়া আসতেছি। কিছু টাকা নিছি, আরো নিমু, বায়না নিছি।”
লিখিত অভিযোগ দায়ের:
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মাসুদ ওরফে রিপন খানের পক্ষে তার ভাই জাকির হোসেন (স্বপন) মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে (তারিখ: ১৮/১০/২০২৬ ইং) উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত মোঃ ইউসুফ হাওলাদার, পিতাঃ মৃত তফিল উদ্দিন হাওলাদার, সাং- দড়িচর খাজুরিয়া অবৈধভাবে বেকু দিয়ে মাটি কাটিয়া রেকর্ডীয় জমি বিনষ্ট ও জোর দখলের পাঁয়তারা করছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ ইউসুফ হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার সচেতন মহল এই ১৭০ একর ফসলি জমিতে শান্তিপূর্ণ চাষাবাদ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a Reply