1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. sarderamun830@gmail.com : Sarder Alamin : Alamin Sarder
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

তরমুজের বাম্পার ফলন: নৈরাজ্য ঠেকাতে মাঠে প্রশাসন

  • প্রকাশিত : শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০২২
  • ১১ 0 বার সংবাদি দেখেছে
বরিশাল প্রতিনিধি //নগরের বাজারগুলোতে অনেক তরমুজ উঠেছে এবার। ছবিটি চৌমাথা এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার তোলা। আজকের পত্রিকা গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের আবাদ হয়েছে বেশি। নগরের বাজার তাই তরমুজে সয়লাব। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই কিছু বিক্রেতা পিস হিসেবে কেনা তরমুজ কেজিতে বিক্রির নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করায় মাঠে নেমেছে প্রশাসন।

গত বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সভায় বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কেজিতে নয়, বরং পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের। সভায় সব ধরনের ফল ও পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রমজানজুড়ে বাজার মনিটরিং জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভাগের ৬ জেলায় ৪৬ হাজার ৪৫১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২১ হাজার ৯৭০ হেক্টর বেশি। সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে পটুয়াখালী, বরগুনা এবং ভোলা জেলায় সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতে ২২ হাজার ৮৯০ হেক্টর, বরগুনায় ১১ হাজার ৫১২, ভোলায় ১১ হাজার ২৪৯, বরিশালে ৬৪৬, পিরোজপুরে ১০৬ এবং ঝালকাঠিতে ৪৮ হেক্টর।

নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকাম এখন তরমুজে সয়লাব। সেখানকার আড়তদার, কর্মচারী ও শ্রমিক মিলিয়ে ৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান এখন তরমুজকে ঘিরে। একের পর এক তরমুজ বোঝাই ট্রলার আসছে ভোলা, বাউফল, রাঙ্গাবালী, মেহেন্দীগঞ্জ এলাকা থেকে। ব্যবসায়ীরা ট্রলার থেকেই শ হিসেবে তরমুজ কিনছেন। খুচরা বাজারে তা পিস হিসেবে সরবরাহ করছেন।

কথা হয় ভোলার চরফ্যাশন থেকে তরমুজ নিয়ে আসা চাষি আব্দুর রহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার ফলন ভালো। সাইজ অনুযায়ী ১০০ তরমুজ সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন।

বাউফলের তরমুজচাষি রজব আলী বলেন, এ বছর এত বেশি তরমুজ হয়েছে যে আশা করছেন ভালোই লাভবান হবেন।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক তাওফিকুল আলম জানান, বরিশাল বিভাগে এ বছর তরমুজ উৎপাদনে বিগত দিনের রেকর্ড ভেঙেছে। তা ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের মাটি তরমুজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তিনি আশা করেন এ বছর কৃষক লাভবান হবেন।

এদিকে মৌসুমের শুরুতেই নগরের বটতলা, নতুনবাজার, চৌমাথা, বাংলাবাজারে তরমুজ এবারও কেজিতে বিক্রি শুরু হয়েছিল। প্রতি কেজি তরমুজের দাম ৪৫-৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। সাধারণত একটি তরমুজ ৩ থেকে ৮ কেজি ওজন হয়। কিন্তু ৩ কেজি ওজনের ওই তরমুজ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কিনে বিক্রেতা সাধারণ মানুষকে দিচ্ছেন ১৫০ টাকার ওপরে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত নামায় তরমুজের বাজারের সেই নৈরাজ্য পাল্টে গেছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ দত্ত বলেন, তরমুজ নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার মোবাইল কোর্ট নেমে সাফ বলে দিয়েছে, কেজিতে নয়, পিস হিসেবে তরমুজ কিনলে পিস হিসেবেই বিক্রি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে নগরের সব ব্যবসায়ীকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাসের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে রোজায় প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তরমুজ নিয়ে নৈরাজ্য ঠেকাতে বাজারগুলোর দিকে চোখ রাখতে ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস সাংবাদিকদের বলেন, তরমুজের দাম নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করায় ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ শুরু করেছে। বরিশালে পিস হিসেবে তরমুজ কিনলে পিস হিসেবেই বিক্রি করতে হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ