নিজস্ব প্রতিবেদক।।
স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা কিংবা ভাইবোনকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে স্পনসর হওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের কাছে থাকার আকাঙ্ক্ষা। তবে এই সিদ্ধান্তের একটি আইনি দিকও রয়েছে। গ্রিন কার্ডের আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ার পরও স্পনসরের আর্থিক দায়িত্ব বহু বছর বহাল থাকতে পারে। যিনি আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন, তাঁর জন্য আবেদন অনুমোদনই সেই দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বের সূচনা।
২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি নোটিশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা—ইউএসসিআইএস—এই দায়িত্বগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ফরম I-864 বা I-864EZ-তে স্বাক্ষরকারী স্পনসর এবং ফরম I-864A-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকার করা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তাঁদের চুক্তি অনুযায়ী অর্থ দাবি করা যেতে পারে। নোটিশটি বিদ্যমান আইনের অধীনে ভরণপোষণ এবং নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সহায়তার অর্থ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ব্যাখ্যা করেছে।
এই অঙ্গীকারের আইনি ভিত্তি হলো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২১৩এ ধারা। সাধারণভাবে, স্পনসরকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে স্পনসর করা ব্যক্তির বার্ষিক আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ পর্যায়ে রাখার দায়িত্ব নিতে হয়। প্রতিশ্রুত সহায়তা না পেলে ওই ব্যক্তি আদালতে তা আদায়ের দাবি করতে পারেন। ফলে এই চুক্তি স্পনসরের জন্য আর্থিক দায় তৈরি করার পাশাপাশি অভিবাসীর জন্যও আর্থিক সুরক্ষার একটি আইনি ভিত্তি দেয়। (govinfo.gov)
সরকারি সহায়তার অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি আরেকটি পৃথক দায়িত্ব। স্পনসরশিপের দায় বহাল থাকা অবস্থায় কোনো অভিবাসী নির্দিষ্ট ধরনের আয় ও আর্থিক সামর্থ্যভিত্তিক সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলে, সেই সুবিধা প্রদানকারী সংস্থা স্পনসরের কাছে ব্যয় করা অর্থ ফেরত চাইতে পারে। দাবি নিষ্পত্তি না হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। তখন মূল অর্থের সঙ্গে আদায়ের খরচ ও আইনজীবীর ফিও যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তবে এখানে শব্দের ব্যবহার ও ব্যাখ্যায় সতর্কতা প্রয়োজন। ‘সরকারি সুবিধা’ বলতে অনেক ধরনের কর্মসূচি বোঝায়; সবগুলোর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ফেডারেল আইনে নির্দিষ্ট জরুরি চিকিৎসাসেবা, স্কুলের দুপুরের খাবার এবং কিছু দুর্যোগকালীন সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধাকে স্পনসরের অর্থ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখা হয়েছে। তাই কোন কর্মসূচি থেকে সহায়তা নেওয়া হয়েছে, তা না জেনে দায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না। সব সরকারি সহায়তার অর্থই স্পনসরকে ফেরত দিতে হবে—এমন বক্তব্য আইনের এই পার্থক্যগুলো আড়াল করে। (govinfo.gov)
যৌথ স্পনসর বা ‘জয়েন্ট স্পনসর’ হওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা জরুরি। কোনো আত্মীয় বা বন্ধুর আবেদনে আয়ের শর্ত পূরণে সাহায্য করতে গিয়ে যিনি যৌথ স্পনসর হন, তাঁর বিরুদ্ধেও আলাদাভাবে দাবি তোলা যেতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, মূল স্পনসরের সঙ্গে একত্রে কিংবা পৃথকভাবে যৌথ স্পনসরের বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব। একইভাবে, ফরম I-864A-তে স্বাক্ষরকারী পরিবারের সদস্যও চুক্তির অধীনে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক বদলে গেলেও আইনি দায়িত্ব একইভাবে বদলায় না। বিবাহবিচ্ছেদ হলে এই আর্থিক অঙ্গীকারের অবসান হয় না। স্পনসর করা ব্যক্তির বয়স ২১ বছর পূর্ণ হলেও দায়িত্ব শেষ হয় না। ফলে দাম্পত্য সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার পরও অভিবাসন আইনের এই চুক্তির কারণে সাবেক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর্থিক দায় বহাল থাকতে পারে।
দায়িত্বের অবসান ঘটতে হলে আইনে স্বীকৃত কোনো শর্ত পূরণ হতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে স্পনসর করা ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া অথবা সোশ্যাল সিকিউরিটির নিয়ম অনুযায়ী কাজের ৪০টি যোগ্য ত্রৈমাসিকের ক্রেডিট অর্জন করা বা তাঁর হিসাবে যোগ হওয়ার যোগ্য হওয়া। এই ৪০ কোয়ার্টারকে সাধারণভাবে প্রায় ১০ বছরের কাজের সমতুল্য বলা হয়। তবে শুধু ১০ বছর কেটে গেলেই শর্তটি পূরণ হয়েছে ধরে নেওয়া যায় না। (travel.state.gov, govinfo.gov)
স্পনসরের কিছু প্রশাসনিক দায়িত্বও রয়েছে। ঠিকানা পরিবর্তন হলে ৩০ দিনের মধ্যে ফরম I-865-এর মাধ্যমে ইউএসসিআইএসকে জানাতে হয়। পরবর্তী সময়ে অন্য কাউকে স্পনসর করার সময়ও যাঁদের প্রতি আগের আর্থিক দায়িত্ব বহাল রয়েছে, তাঁদের যথাযথভাবে পরিবারের সদস্যসংখ্যার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এসব তথ্য পরবর্তী আবেদনটির আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই স্পনসর হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন—কী ধরনের সহায়তা দিতে হতে পারে, কত দিন দায়িত্ব চলতে পারে এবং কোন পরিস্থিতিতে তা শেষ হবে। স্বাক্ষর করা ফরমের কপি সংরক্ষণ করা এবং কোনো নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা বা অর্থ ফেরতের দাবি নিয়ে প্রয়োজন হলে আইনি পরামর্শ নেওয়া পরিবারকে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে। প্রিয়জনকে কাছে আনার সিদ্ধান্তের সঙ্গে যে আর্থিক প্রতিশ্রুতি যুক্ত হচ্ছে, স্বাক্ষরের আগেই তার অর্থ বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।