
বরিশাল নগরীর সদর রোড এলাকার একটি পুরোনো বাণিজ্যিক সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। “মেসার্স হাবিব স্টোর” নামের প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীরা অভিযোগ করেছেন, ডা. আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আদালতে তথ্য গোপন করে প্রশাসনিক আদেশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের দখলীয় সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই সম্পত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। জমিটি তারা বৈধভাবে ক্রয় করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। সম্প্রতি ডা. আমিনুল ইসলাম নিজেকে জমির মালিক দাবি করে আদালতের একটি আদেশ নিয়ে সেখানে দখলচেষ্টায় নামেন।
অভিযোগে বলা হয়, জমি সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ও চলমান দেওয়ানি মামলার তথ্য গোপন করে বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে আদেশ নেওয়া হয়েছে। পরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে বিষয়টি এলে তাৎক্ষণিকভাবে দখল প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন জমি নিয়ে বিরোধ ও দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে বিভিন্ন সুবিধা নিলেও বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. আমিনুল ইসলাম। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।” বিএনপিতে তার কোনো পদ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দলের সময় হলে তারা আমাকে মূল্যায়ন করবে।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, ছেলের সঙ্গে কথা বলে পরে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ফোনালাপের সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হুমকিমূলক ভাষাও ব্যবহার করেছেন তিনি।
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যেন কোনো পক্ষ জমি দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।