![]()
অনশনে বসা ওই যুবক ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে বিশ্বজিৎ পাত্র (২৮)। তার প্রেমিকা পাশের বাড়ির মনোতোষ বাড়ৈর মেয়ে অনুশীলা বাড়ৈ।
বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে প্রেমিকা অনুশীলা বাড়ৈর বাড়ির সামনে অনশনে বসেন বিশ্বজিৎ।
বিশ্বজিৎ পাত্রর দাবি, অনুশীলা বাড়ৈর (২৩) সঙ্গে ১০ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তারা চার বছর আগে কোর্ট ম্যারেজ করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি বিয়ের স্বীকৃতির দাবি করেন।
তিনি বলেন, অনুশীলা বাড়ৈর নার্সিং পড়ালেখার জন্য প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ করি। ঢাকায় একসঙ্গে দীর্ঘ সময় বাসা ভাড়া করে থেকেছি। তার পরিবার ও গ্রামের কমবেশি সবাই জানে।
সম্প্রতি লেখাপড়া শেষ করে আমার স্ত্রী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্সিংয়ে চাকরি নিয়েছে। এরপর থেকে আমার সঙ্গে পরিবারের কথায় দূরত্ব বজায় রাখছে। ১২ দিন হয় আমার সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। তাই আমি নিরুপায় হয়ে তার বাড়িতে আমাদের বিয়ের সম্পর্কের স্বীকৃতি পেতে অনশনে বসেছি। সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এখানেই অনশন চালিয়ে যাব।
অনুশীলা বাড়ৈ বলেন, তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। জোর করে কোর্ট ম্যারেজে সই করাইছে। আমি এক সপ্তাহ আগে তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। তার সঙ্গে আমি সংসার করব না।
স্থানীয় মেম্বার ও কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছেলে ও মেয়ের। সেই সম্পর্কের জেরে তারা দুজনের সম্মতিতে গোপনে বিয়ে করছে। তাদের বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে ছেলেটি দুই দিন ধরে অনশনে বসেছে। উভয় পরিবারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করছি।
এ ব্যাপারে ডাসার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে থানায় এখনো কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।