
অনলাইন ডেস্ক
বরিশালে ওলামাদলের এক নেতাকে অহেতুক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ধর্মাদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী হলেন মাওলানা মোঃ মোস্তফা। তিনি ঐ এলাকার মৃত জিন্নাত আলী হাওলাদারের ছেলে ও জেলা জাতীয়তাবাদী ওলামাদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
এদিকে মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে তিনি বিভিন্ন মহলে সুবিচার চেয়ে দ্বারস্থ্য হচ্ছেন। অভিযুক্ত হলো ঐ এলাকার নুর মোহাম্মদ হাওলাদার। তিনি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের অনুসারী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, যদিও ৫ আগস্টের পর ঘাপটি মেরে বিভিন্ন স্থানে থাকলেও সাধারণ মানুষকে হয়রানী কোনোভাবেই থামছে না এই দোসরের।
অভিযোগে মোস্তফা জানান, নুর মোহাম্মদ আওয়ামী লীগের একজন অনুসারী। তিন এই এলাকার আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান বাবুর সহযোগী ছিল। এছাড়া আওয়ামী লীগের আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসের বাড়িতে কাজ করতেন তিনি । আর এই সুযোগে গত ১৭ বছর এলাকার বিভিন্ন মানুষকে মিথ্যা মামলা, শালিসির নামে অর্থ আদায়সহ নানান নেতিবাচক কর্মকান্ড পরিচালিত করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের পতন হলেও স্বৈরাচারী দলের অনুসারী নুর মোহাম্মদ এলাকার মানুষদের এখনো নানাভাবে হয়রানী করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্প্রতি আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। অথচ মামলায় লোকজন নিয়ে হামলার চেষ্টাসহ যেসব বিষয় তিনি উল্লেখ করেছেন এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি।
তিনি অভিযোগে বলেন, নুর মোহাম্মদের এক ছেলে মাদকাসক্ত। নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছে। এছাড়া তার বড় ছেলেও আওয়ামী লীগের অনুসারী। মাদকসহ বিভিন্ন নেতিবাচক বিষয়ে প্রতিরোধে আমি কমিউনিটি পুলিশিং এ উপস্থাপন ও পুলিশ কমিশনার মহোদয়কে অবগত করি। মুলত এসব বিষয় নিয়েই নুর আমার ওপর দিনের পর দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এছাড়া ধর্মাদি বাজারের কয়েকটি দোকানের জমি নিয়ে তার সাথে মামলাও চলছে। যদিও ওই জমি বৈধভাবে আমাদের। অথচ ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করায় বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এসবের বিরোধের জের ধরেই নুর মোহাম্মদ আমাকে দমাতে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। যার বাস্তবে কোন সত্যতা নেই। এ বিষয়ে আমি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এদিকে সরেজমিনে গেলে হামলা কিংবা মামলায় উল্লেখিত কোন বিষয়ের সত্যতাও মিলেনি। স্থানীয় মজিবর জানান, হয়রানীর উদ্দেশ্যে সম্পুর্ণ মিথ্যা একটি মামলা দিয়েছে নুর মোহাম্মদ। বাজারের বিরোধীয় দোকানে মোস্তফা কিংবা অন্য কেউই লোকজন নিয়ে প্রবেশ করে ক্ষতিসাধণ করেনি। এখানে একটি পরিত্যক্ত দোকান রয়েছে শুধু। এছাড়া পার্শ্ববর্তী সব দোকান ঠিকই রয়েছে। মুলত মোস্তফাকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে নুর মোহাম্মদ। আমরা এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক জানান, নুর মোহাম্মদ একজন আওয়ামী লীগের অনুসারী। দীর্ঘ বছর এলাকায় সাধারণ মানুষকে হয়রানী করেছেন। এখনো দল পালালেও তিনি বিভিন্ন সময়ে মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানী করেন। এছাড়া মোস্তফা ভাইকেও একইভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন নুর। বিষয়টি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা দায়ের করা নুরের বিচারের দাবি জানাই।
এদিকে স্থানীয় এক যুবক জানান, নুর মোহাম্মদ সম্পর্কে আমাদের দাদা। কিন্ত তিনি দীর্ঘ বছর যাবত আমাদের বিপুল ওয়ারিশসুত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি নিজের কব্জায় অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। বিগত ১৭ বছর তার ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারিনি। এখন মামলা দায়ের করবো।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির সিকদার জানান, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ রিপোর্ট দাখিল করা হবে। কোন মানুষ যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হয় এজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
Leave a Reply