অনলাইন ডেস্ক
বরিশালে এক সাংবাদিকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়েরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ০৭/০৪/২৫ তারিখে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় আসামিরা হলেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলার গাড়ুরিয়া ইউনিয়নের ভান্ডারিকাঠি এলাকার বাসিন্দা মৃত নুর হোসেন খানের ছেলে মোঃ কাওসার খান , কালাম খান ও সালাম খান। এর মধ্যে কাওসার বরিশাল থেকে প্রকাশিত স্থানীয় দৈনিক দক্ষিণবঙ্গ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মিথ্যা এ মামলাটি দায়ের করেছেন একই এলাকার মৃত খালেক হাওলাদারের ছেলে আবু জাফর হাওলাদার বলে অভিযোগে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক কাওসার অভিযোগে জানান, ভান্ডারীকাঠি মৌজার জে.এল ৬৭ এস.এ খতিয়ান নং- ১৬, হাল দাগ ৬২২/৬২৩/৬২৪/৬২৫ মোট ১.২০ উক্ত সম্পত্তি পৈত্রিক সূত্রে ৬০ বছরের উর্ধ্বকাল যাবত আমার পূর্ব পুরুষগণ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি ভোগদখল করিয়া আসিতেছে আমার পূর্বপুরুষের নামে উক্ত তফসিলভুক্ত সম্পত্তির রেকর্ড না থাকায় প্রতারক জাফর বিষয়টি জানতে পারিয়া এই মর্মে আমার বাবার সরলতাকে পুঁজি করে মিথ্যে আশ্বাস দেয় যে ডিসিআর জমি কতো দিন থাকবে আমি কোর্টের মুহুরি কাজ করি আমাকে ৪লক্ষ্য টাকা দিলে আপনার জমি রেকর্ড করে দিবো। এরই প্রেক্ষিতে একই এলাকার প্রতিবেশী জাফর রেকর্ড করিয়ে দেয়ার কথা বলে ৪ লাখ টাকা চুক্তি সাপেক্ষে আমার বাবার কাছ থেকে মৌখিক চুক্তিতে পর্যায়ক্রমে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা নেয়। একইসাথে জমির সমস্ত দরকারি কাগজপত্র নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে জমি রেকর্ডের কাজ চলমান বলে আশ্বস্ত করে কিন্তু টাকা নিয়ে একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে পরবর্তীতে প্রতারক জাফরের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করলে টালবাহানা শুরু করে। একপর্যায়ে জানতে পারি আমার বাবার কাছ থেকে নেওয়া পৈতৃক সম্পত্তির কাগজ পত্র জাল জালিয়াতি করে জাফর তার বাবার নামে ভুয়া রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন।
কাওসার জানান, জাফরের জালিয়াতির আমরা জানতে পারলে বিষয়টি নিয়ে গত ২২/০১/২২ তারিখে ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান আসামি জাফরকে একাধিকবার নোটিশ করলেও সেই নোটিশকে উপেক্ষা করে পরিষদে উপস্থিত হয়নি।
কাওসার জানান, জাফরের জাল-জালিয়াতির ঘটনায় আমার জমি ও টাকা ফেরত পেতে গত ২৬/০১/২৫ তারিখে একটি আইনী নোটিশ প্রেরণ করি। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মিথ্যা মামলার হুমকি প্রদান করে । এরই ধারবাহিকতায় জাফর আমার ও ২ ভাইয়ের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। এর আগেও ০৯/০২/২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মিথ্যা ফৌজধারী কার্যবিধী আইনের ১০৭/১১৪/১১৭ (গ) মামলা দায়ের করেন। যেখানে আমিসহ দুই ভাই, চাচা ও আমার অসুস্থ স্ত্রী , বৃদ্ধ মা’কেও আসামিভুক্ত করতে রেহাই দেয়নি। যদিও মামলার ঘটনার সাথে বাস্তবে কোন মিল নেই। মুলত হয়রানীর উদ্দেশ্যে অব্যাহত মামলা দায়ের করে যাচ্ছেন প্রতারক জাফর ।
এদিকে কাওসার অভিযোগে আরও জানান, সম্প্রতি জাফর আমার ও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাদাবির অভিযোগ এনে বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। যেখানে তার কর্মরত বরিশালের মীনা ক্লথ স্টোরে গিয়ে চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনা উল্লেখ করেছেন।
তিনি জানান, যদিও জাফরের দায়ের করা মামলায় উল্লেখিত ঘটনার দিন (২৭ মার্চ) ২৬ রমজান ছিল। ওইদিন গারুড়িয়া ইউনিয়নে বাকেরগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত একটি ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলাম। যার প্রমাণ হিসেবে আমার কাছে উল্লেখিত তারিখ সময় সহ প্রোগ্রামের ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া মিথ্যা মামলাভুক্ত করা আরেক আসামি আমার বড় ভাই সালাম তার কর্মস্থল সিলেটে ছিলেন। অন্য ভাই কালাম খানও ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে ছিল।
কাওসার জানান, ঘটনার সাথে আমার ও আমার ভাইদের কোন সম্পৃক্ততা না থাকলেও পাওনা টাকার বিরোধ নিয়ে হয়রানীর উদ্দেশ্যে ক্রমাগতভাবে এমন হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে যাচ্ছেন প্রতারক জাফর।
এদিকে এর আগে গত ১০/০৩/২০২৫ তারিখে উল্লেখিত জমি রেকর্ড করিয়ে দেয়ার কথা বলে জাফর ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে জালিয়াতি করার ঘটনা সুত্রে বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করি। যার ধারা ৪০৬/৪২০/৫০৬(২)। মামলাটি এখনো বাকেরগঞ্জ থানায় তদন্তাধীন রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে ক্ষিপ্ত হয়ে একেরপর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে যাচ্ছেন আসামি প্রতারক জাফর। এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। উল্লেখিত বিষয়ে জানতে জাফরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় ।
এদিকে এলাকাবাসী অভিযোগে জানান, জাফর মহুরী পরিচয়ে অনেকের সাথে জমি রেকর্ডের কথা বলে অর্থ আত্নসাত করেছে। এলাকায় ভুমিদস্যুতা, দখল ও হয়রানীর উদ্দেশ্যে মামলাবাজসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে জাফরের দায়ের করা মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলাটি বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান জানান,