1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. admin@zzna.ru : admin@zzna.ru :
  3. sarderamun830@gmail.com : Sarder Alamin : Alamin Sarder
  4. wpsupp-user@word.com : wp-needuser : wp-needuser
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২৮ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।
সংবাদ শিরনাম :
মামলা হওয়ার পরেও ধরা-ছোয়ার বাহিরে শেখর পরিবারের উদ্যোগে প্রয়াত সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের দশম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত মানবিক কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদের উদ্যোগ, সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে ঈদ উপহার বিতরণ হিজলায় পুলিশ সদস্যদের ওপর মৎস্য অধিদপ্তরের অতর্কিত হামলা সুলভ মুল্যে ইফতার বুকিং নিচ্ছে ‘লবস্টার রেস্ট্রুরেন্ট ও কনভেনশন হল’  সুলভ মুল্যে মানসম্পন্ন ইফতার বিক্রি করছে ‘খাবার বাড়ি সুইটস এন্ড রেস্ট্রুরেন্ট’ বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এ্যাল্যায়েন্স (বিএমটিএ) পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ বরিশালে পুর্ব শত্রুতার জেরে ৪ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, শেবাচিমে ভর্তি বসিক উপ নির্বাচনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে মো: রাশিক হাওলাদার চরকাউয়া খেয়াঘাটে অপ্রতিরোধ্য জুয়ার আসর !

রহমতের প্রথম দিন আজ

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০২৩
  • ৮০ 0 সংবাদ টি পড়েছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক // আহলান সাহলান, মাহে রামাদান। মুসলিম উম্মাহর জন্য বছর ঘুরে আবার এসেছে পবিত্র রমজানুল মোবারক। রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। আজ শুক্রবার প্রথম রোজা। রহমতের প্রথম দিন আজ। মহান আল্লাহ কর্তৃক এ মাসে প্রথম দিন থেকে শেষ দিন অবধি সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় আহার-পাপাচার থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহরই সন্তুষ্টি কামনায় রোজা পালনের বিধান বর্ণিত হয়েছে।

যেমন ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনি (তোমাদের) পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমাদের পর হেজগারি অর্জিত হয়।’

উল্লেখ্য, ইসলামের বিধানে সর্বপ্রথম শুধুমাত্র আশুরার রোজা ফরজ ছিল। অর্থাৎ বছরে একটি। তারপর প্রতি মাসে তিনটি রোজা ফরজ হলো। প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ। অতঃপর বর্ণিত আয়াতে কারিমা দ্বারা রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়েছে। আর এই রোজাগুলোর ফরজ হয়ে গেছে। রোজা দ্বিতীয় হিজরির ১০ শাবানুল মোবারক ফরজ করা হয়েছে।

পবিত্র রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যমণ্ডিত। বিশেষত, এ মাসেই অবতীর্ণ করা হয় পবিত্র কোরআনুল কারিম। কোরআনুল কারিম এবং হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় এ মাসের ব্যাপক মযার্দা বর্ণনা করা হয়েছে।

যেমন, হজরত সায়্যিদেনা জাবির ইবনে আবদুল্লাহ(রা.) থেকে বর্ণিত রহমতে আলামিয়ান হাবিবে রহমান হজরত মুহাম্মদ (সা.)- এর মর্যাদাপূর্ণ বাণী হচ্ছে ‘আমার উম্মতকে রমজান মাসের পাঁচটি এমন জিনিস দান করা হয়েছে, যেগুলো আমার পূর্বে অন্য কোনো নবী পাননি’—

১. যখন রমজানুল মোবারকের প্রথম রাত আসে, তখন আল্লাহতায়ালা তাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন। আর যার প্রতি আল্লাহ রহমতের দৃষ্টি দেন, তাকে কখনো আজাব দেবেন না।

২. সন্ধ্যায় তাদের মুখের দুর্গন্ধ (যা ক্ষুধার কারণে সৃষ্টি হয়) আল্লাহতায়ালার নিকট মেশকের চেয়েও বেশি সুগন্ধি হয়।

৩. ফেরেশতারা প্রত্যেক দিনে ও রাতে তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকেন।

৪. আল্লাহতায়ালা জান্নাতকে নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ ফরমান, ‘আমার নেক বান্দাদের জন্য সুসজ্জিত হয়ে যাও। শিগগিরই তারা দুনিয়ার কষ্টের বিনিময়ে আমার ঘর ও দয়ার মধ্যে শান্তি পাবে।’

৫. যখন রমজান মাসের সর্বশেষ রাত আসে, তখন আল্লাহতায়ালা সবাইকে ক্ষমা করে দেন।

উপস্থিতদের মধ্যে একজন দাঁড়িয়ে আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল এটা কি ‘লাইলাতুলকদর?’ ইরশাদ ফরমালেন, ‘না’। তোমরা কি দেখনি যে, শ্রমিকরা যখন নিজের কাজ সম্পন্ন করে নেয়, তখন তাদের পারিশ্রমিক দেয়া হয়? (আত্তারগির ওয়াত্তারহিব, খণ্ড-দ্বিতীয়, পৃষ্ঠা-৫৬, হাদিস-৭)।

আলোচ্য হাদিসটি দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, রোজাদার ব্যক্তির ওপর মহান আল্লাহর রয়েছে অগণিত দয়া। ক্ষমাপ্রাপ্তি অপূর্ব এ সময়ের সঠিক ব্যবহার করা আমাদের প্রত্যেক মুসলমান নর-নরীর উচিত। প্রতিটি মুহূর্তে এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা আবশ্যক, যেন বান্দার প্রতি আল্লাহ এবং তার রাসুল (সা.)-এর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়।

আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ মাস আসার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর ইবাদতে বেশি মাত্রায় মগ্ন হয়ে যেতেন। যেমনিভাবে উম্মুল মুমিনীন সায়্যিদাতুনা আয়িশা সিদ্দীকা (রা.) বর্ণনা করেন ‘যখন রমজান আসত, তখনই আমার মাথার মুকুট, মিরাজের দুলহা হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহামহিম আল্লাহর ইবাদতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও তৎপর হয়ে যেতেন। আর গোটা মাসেই নিজের বিছানা মোবারকের ওপর তাশরিফ আনতেন না।’(দুরদে মানসুর, খণ্ড-প্রথম, পৃষ্ঠ-৪৪৯)।

বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ ‘তফসিরে নঈমীর দ্বিতীয় খণ্ডে পবিত্র এ মাসের অনেক গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—

১. কাবা শরিফ মুসলামানদের তার কাছ ডেকে রহমত প্রদান করে, কিন্তু এটা (মাহে রমজান) এসে রহমত বণ্টন করে। এ বিষয়টা এমন যেন সেটা (কাবা) একটা কূপ, আর এটা (রমজান শরিফ) হচ্ছে সমুদ্র। অথবা ওটা (অর্থাৎ কাবা) হচ্ছে সমুদ্র আর এটা (অর্থাৎ রমজান) হচ্ছে বৃষ্টি।

২. প্রতিটি মাসে বিশেষ বিশেষ কিছু দিন-তারিখ রয়েছে। আর তারিখগুলোর মধ্যেও বিশেষ মুহূর্তে ইবাদত-বন্দেগি সম্পন্ন করা হয়। যেমন- ঈদুল আজহার কয়েকটা (বিশেষ) তারিখ হজ, মহরমের দশম দিন উত্তম, কিন্তু রমজান মাসে প্রতিদিনে ও প্রতিটি মুহূর্তে ইবাদত হয়। রোজা ইবাদত, ইফতার ইবাদত, ইফতারের পর তারাবির জন্য অপেক্ষা করা ইবাদত, তারাবি পড়ে সেহরির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ঘুমানো ইবাদত এবং সেহরি খাওয়াও ইবাদত। মোট কথা, প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহতায়ালার শান ও মহা বদান্যতাই নজরে পড়ে।

৩. ‘রমজান’হচ্ছেএকটা‘ভাট্টি’।ভাট্টিহলোঅপরিষ্কারলোহাকেপরিষ্কারএবংপরিষ্কারলোহাকেমেশিনেরযন্ত্রাংশেপরিণতকরেদামিকরেদেয়, আর স্বর্ণকে অলংকারে পরিণত করে ব্যবহারের উপযুক্ত করে দেয়, তেমনিভাবে রমজান মাস গুনাহগারদের পবিত্র করে এবং নেককার লোকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়।

৪. রমজানে নফলের সওয়াব ফরজের সমান এবং ফরজের সওয়াব সত্তর গুণ বেশি পাওয়া যায়।

৫. কিছুসংখ্যক আলিম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে মৃত্যুবরণ করে, তাকে কবরে প্রশ্ন করা হয় না।’

৬. এমাসেশবেকদররয়েছে।কোরআনরমজানমাসেঅবতীর্ণহয়েছে। অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয় আমি সেটাকে কদর রাত্রিতে অবতরণ করেছি’(পারা-৩০, সুরা-কদর, আয়াত-১)।

৭. রমজান মাসে শয়তানকে বন্দি করা হয়, দোজখের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়, জান্নাতকে সুসজ্জিত করা হয় এবংদরজাগুলো খুলে দেয়া হয়।এ কারণে এসব দিন সৎকর্ম অধিকও গুনাহ কমে যায়।যেসব লোক গুনাহ করেও নেয়, তারা ‘নফসে আম্মারা কিংবা নিজেদের সাথি শয়তান’(সঙ্গে অবস্থানকারী শয়তান) পথভ্রষ্ট করার কারণে করে থাকে।

৮. রমজানে পানাহারের হিসাব হয় না।

৯. কিয়ামতে রমজান ও কোরআন রোজাদারের জন্য সুপারিশ করবে। রমজান বলবে, ‘ওহে আমার মালিক! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত রেখেছিলাম।’আর কোরআন আরজ করবে, ‘ওহে মহান রব! আমি তাকে তেলাওয়াত ও তারাবির মধ্যে ঘুমাতে দিইনি।

১০. হুজুর পুরনুর শফিয়ে ইয়াউমুন নুশুর, হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানুল মোবারকে প্রত্যেক কয়েদিকে মুক্ত করে দিতেন এবং প্রত্যেক ভিখারিকে দান করতেন। মহামহিম প্রতিপালকও রমজান মাসে দোজখিদের মুক্তি দেন। সুতরাং, রমজানে নেক কাজ করা এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমান নর-নরীর উচিত।

১১. পবিত্র কোরআনে শুধু ‘রমজান’ শরিফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবংসেটার ফজিলত সমূহই বর্ণিত হয়েছে।অন্য কোনো মাসের নামও ফজিলত সুস্পষ্টভাবে নেই। মাসগুলোর মধ্যে কোরআন শরিফে শুধু রমজান মাসের নাম নেয়া হয়েছে, নারীদের মধ্যে শুধু বিবি মরিয়মের নাম এসেছে, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে হজরত সায়্যিদুনা জায়েদ ইবনে হারিসা এর নাম নেয়া হয়েছে, যার কারণে এই তিনজনের মাহাত্ম জানা গেল।

১২. রমজান শরিফে ইফতার ও সেহরির সময় দোয়া কবুল হয়। এ মর্যাদা অন্য কোনো মাসে নেই। (তাফসিরে নঈমী, খণ্ড-দ্বিতীয়, পৃষ্ঠা-২০৮)। মহান আল্লাহ সকলকে রমজানের তাৎপর্য অনুধাবন করে সঠিক আমল করার তৌফিক দিন। আমিন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ