1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. sarderamun830@gmail.com : Sarder Alamin : Alamin Sarder
সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

‘নেটওয়ার্কের’ বাইরে সেই দুই জঙ্গি

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১৯ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক // এ যেন চোখে ধুলো দিয়ে বীরদর্পে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা। কোনো রকম আগ্নেয়াস্ত্র বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়, পুলিশের চোখে পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন দুর্ধর্ষ জঙ্গি ছিনতাই বা পালিয়ে গেলেও এক মাসের বেশি সময়ে তাদের হদিস পাওয়া যায়নি।

কোন রুটে, কীভাবে সম্ভাব্য কোন এলাকায় তারা পালিয়ে গেছে সে রকম কোনো তথ্য বলতে পারছেন না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

এদিকে গত ২০ নভেম্বর পুরান ঢাকার আদালত পাড়া থেকে দিনদুপুরে ওই দুই জঙ্গি ছিনতাই হলে এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এ নিয়ে কয়েকটি তদন্ত কমিটিও গঠন হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথল্যের সুযোগে ওই জঙ্গিরা পালাতে সক্ষম হয় বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে তদন্তের ফলাফল কী তা নিয়েও প্রকাশ্যে কেউ কোনো কথা বলছেন না।

ফলে দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের এভাবে পালিয়ে আত্মগোপনে সক্ষম হওয়া এবং জঙ্গি সংগঠনগুলোর তৎপরতার সমীকরণ ভাবিয়ে তুলছে বিশ্লেষকদের। একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে তারা দুই জঙ্গির বিষয়ে কিছু ধারণাভিত্তিক মন্তব্য করেছেন।

ওই গোয়েন্দাদের ধারণা, দুই জঙ্গি মইনুল হাসান শামীম এবং আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ঢাকা থেকে ছিনতাই হওয়ার পর সময়-সুযোগ বুঝে ভারতে পালিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে আসাম বা মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও বলেন, ছিনতাই সফল হওয়ার পর কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে পালানোর পর সাধারণত তারা পুনরায় ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে বিদেশে পালানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।

এর আগেও ত্রিশালে প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনাটিতে একাধিক জঙ্গি পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যায় বলে তথ্য পাওয়া যায়।

ছিনতাই হওয়া ওই দুই জঙ্গির বিষয়ে তদন্তের অন্যতম প্রধান দায়িত্বে থাকা ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে বলার মতো অগ্রগতি এখনও নেই।

তবে আমরা ওই দুই জঙ্গিকে গ্রেফতারসহ বিষয়টি নিয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’ প্রায় অভিন্ন মন্তব্য করেন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে প্রধান ভূমিকা রাখা এলিট ফোর্স র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে র‌্যাব বরাবরই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করে থাকে। এ ক্ষেত্রেও র‌্যাবের গোয়েন্দারা কাজ করছেন। তবে পলাতক জঙ্গিদের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।’

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মো. আবদুর রশীদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘এই জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরে এ ঘটনায় জড়িত অনেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর আওতায় এসেছে বলে মনে হয়।

যারা পালিয়ে গেছে (দুই জঙ্গি) তাদেরকে ধরার জন্য চেষ্টা করছে বলেও মনে করি। কিন্তু তাদের সর্বশেষ অবস্থান বা এ বিষয়ে আগাম তথ্য প্রকাশ জঙ্গিদের ধরার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে নিতে পারেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সে কারণে অনেক সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে আমি মনে করি, এটি একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কেননা জঙ্গি ছিনতাইয়ের এ ঘটনাটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হয়েছে। এবং এর সঙ্গে অনেক পৃষ্ঠপোষক রয়েছে।’

তিনি বলেন ‘স্বভাবতই এর দায় পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী বেশি দিন ধরে রাখবে না বলে মনে করি। এ ছাড়া সব জায়গায় গোয়েন্দা বাহিনীর সফলতা থাকবে এটাও ভাবা যাবে না।

এ ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, গোয়েন্দাদের আগাম তথ্যের ঘাটতি এবং সশরীরে যারা দায়িত্বে ছিল তাদের মধ্যে একটা শৈথিল্য ছিল। এ বিষয়গুলোতে বিভাগীয় পর্যায়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

জানা যায়, গত ২০ নভেম্বর পুরান ঢাকার আদালত পাড়া থেকে দিনদুপুরে পুলিশের চোখে-মুখে পিপার স্প্রে মেরে ও মারধর করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বাইরে থাকা জঙ্গিরা।

ছিনিয়ে নেওয়া আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুরের মইনুল হাসান শামীম এবং লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার ভেটেশ^র গ্রামের আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব।

তারা জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য এবং লেখক অভিজিৎ রায় ও জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে আদালতপাড়ায় এসে পুলিশের চোখে পিপার স্প্রে মেরে ও মারধর করে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ছিনতাই চক্রে ১৮ জনের একটি দল জড়িত ছিল।

এ ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২১ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। ইতিমধ্যে আসামিদের অনেককে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের সাত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালায়, পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে ডিএমপির তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দিয়েছে বলেও জানা যায়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ