1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. sarderamun830@gmail.com : Sarder Alamin : Alamin Sarder
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

মেহেন্দিগঞ্জে নৌকা বিরোধী আ’লীগ নেতার সম্পাদক পদ প্রাপ্তিতে দৌড়ঝাপ

  • প্রকাশিত : সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৩ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক // রাজনীতিতে দলীয় কোন্দল যেন প্রত্যেক দলেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দলের অভ্যন্তরিণ কার্যতৎপরতা সেই কোন্দলে অগ্রসরের বদলে পিছিয়ে যায়। এতে ঐ দল সাংগঠনিকভাবে হুমকির মুখে পড়ে। এক দলের মধ্যেই বিবেধের প্রাচীর তৈরী হলে সেদলকে পশ্চাতে ফেরাতে বিরোধী কোন দলের প্রভাব ধরকার হয়না। মুষ্টিমেয় রাজনীতিবিদদের প্রতিহিংসা ও দুরদর্শীতার অভাবে সেই কোন্দল ভয়ঙ্কর পর্যায়ে রুপ নেয়।

 

 

হামলা , মামলা ও প্রাণহানীর মত ঘটনাও ঘটে থাকে। একক আধিপত্য বিস্তার , ক্ষমতার অপকৌশল, দাপটে নেতৃত্ব পর্যায়ে এক কেন্দ্রীকতা ফুটে ওঠে। এসময়ই সুসময়ের কোকিল হিসেবে ফায়দা লুটে কতিপয় সুবিধাবাদী ব্যক্তি অথবা কোন সংগঠন। যদিও বরাবরের ন্যায় এমন রাজনীতি আলোচনায় থাকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাজুড়ে। স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ কোন্দলে মাঝপথে অসাধু সুবিধা ভোগীরা স্বার্থ হাসিলে শুধু তৎপরই নয় নীতি নৈতিকতাকেও বিসর্জন দেয়। উপজেলায় দীর্ঘ একটা সময়ে নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে স্থানীয় সাংসদ পংকজ দেবনাথ। সাংসদ হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেই নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছেন। ব্যবহার করেছেন পালিত সন্ত্রাসীদের। উপজেলার প্রকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অধিকাংশই এই সাংসদের সন্ত্রাসী থাবা থেকে রক্ষা পায়নি। হামলা, মামলা , খুন যেন উপজেলার রাজনৈতিক পরিবেশ হয়ে দাড়িয়েছিল।

 

 

জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীন রাজনীতিবিদদেরও তোয়াক্কা না করেই এই সাংসদ নানাবিধ অসাধু কর্মকান্ড চালায়। আর তার ক্ষমতায় আধিপত্য বিস্তারে সহযোগী হিসেবে উপজেলার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে যেন কোণঠাসাই করে রাখছিলেন। আবার ব্যবহার করেছেন কথিত সুবিধাভোগী ব্যক্তিদেরও। সেই সুবিধা ভোগীরা পঙ্কজের সুসময়ের পাশে থাকলেও নানা অভিযোগে আওয়ামী লীগের সকল পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ায় ভিন্ন পহ্নায় ফায়দা লুটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তথাপি এসকল ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আসনে স্থান দিলে সাংগঠনিক , অভ্যন্তরিণ দল বিভক্তি ঘটবে বলে অধিকাংশ রাজনীতিবিদ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এসম্প্রতি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা প্রকাশ হচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে। আর এতেই ঐসকল সুবিধাভোগীরা ফায়দা লুটতে অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

 

 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রাপ্তিতে জেলা পর্যায়ে দৌড়ঝাপ করছেন স্বার্থ হাসিলে ও সুবিধাভোগী সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের নানা অসাধু কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগী উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফিজুর রহমান রিপন। উপজেলার সম্মেলন ঘিরে একের পর এক স্থানীয় নেতাকর্মীদের দেয়া অভিযোগে তার নানান চাটুকারিতা প্রকাশ পাচ্ছে।

 

 

অভিযোগে জানাযায়, ইতিপুর্বে সদর ইউপি থেকে দলীয় প্রতিক নৌকা প্রাপ্ত হয়ে নির্বাচিত হন রিপন। তবে নৌকা পেয়ে বিজয়ী হলে রিপনের ওপর নজড় পড়ে সাংসদ পংকজের । সাংসদের দাপটে বশীভূত হয়ে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নে উপজেলাজুড়ে রাজীনিতির নামে অপকৌশল বাস্তবায়ন করেন। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রকৃত উপজেলা , ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রিপন নৌকা পেয়ে নির্বাচিত হলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউপি নির্বাচনে অবস্থান নেয় নৌকার বিপক্ষে সাংসদের প্রার্থীর পক্ষে। যারা অধিকাংশই বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। সেসকল নির্বাচনে নৌকা নৌকা ডুবাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অগ্রসর ভুমিকা পালন করে এই রিপন। এছাড়া মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনেও নৌকার বিপক্ষে বিপরীত মেরুতে অবস্থান নেয়। এখানেও অভিযুক্ত সাংসদের থাবা পড়ে।

 

 

যদিও জনপ্রিয়তা ও মানুষের আস্থায় নৌকা প্রতিকের মেয়র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন খান নানা প্রতিবন্ধকতা রুখে দিয়ে বিজয় লাভ করেন। সবশেষে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৫নং সদর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এর প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয় এই রিপন নিজে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চসমা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে নৌকাকে হারাতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকেন। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এর নৌকা পরাজিত হয়, নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগ এর আরেক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন বেপারি । এদিকে মোস্তাফিজুর রহমান রিপন তার আপন ভাই জিয়াউর রহমান উজ্জ্বল জেলা যুবলীগ থেকে দেয়া কমিটির বিপক্ষে সাংসদ পংকজ নাথের দেয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদকও। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাম্মি আহম্মেদ এর বাবা জেলা আওয়ামী লীগ এর সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মহিউদ্দিন আহমেদ এর মৃত্যুবার্ষীকির দিনে সাংসদ পংকজ নাথ এর অনুসারীরাসহ তারা দুই ভাই কেক কেটে ১ ফালগুনের আনন্দ উদযাপন করে।

 

 

মোস্তাফিজুর রহমান রিপনের দলীয় শৃঙ্খলা পরিপহ্নী এমন অনেক কর্মকান্ডের স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছেন উপজেলার সকল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। নানা অসাধু কর্মকান্ড বাস্তবায়নের আওয়ামী লীগের সকল পদ থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত স্থানীয় সাংসদ পংকজের এই অনুসারী এবার জেলা আওয়ামী লীগে তার চাটুকারিতা অব্যাহত রেখে উপজেলা সম্মেলনে সম্পাদক পদ প্রাপ্তিতে মরিয়া হয়ে ওঠায় শঙ্কা ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রবীন রাজনিতিবীদরা।

 

 

একাধিক উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জানান, মোস্তাফিজুর রহমান রিপন নিজের স্বার্থ হাসিলে রাজনীতিতে অধিক সময় পার করেছেন। স্থানীয় সাংসদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও নৌকা হারাতে পুর্বের নির্বাচনে প্রত্যক্ষভাবে ভুমিকা পালন করেছেন। এছাড়া দলের অভ্যন্তরিণ কোন্দল ও রাজনীতিতে ভীতি ছড়িয়েছেন। রাজনৈতিক শৃঙ্খলা পরিপহ্নি এসকল অভিযোগ সম্মেলনের পুর্বেই সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পর্যায় থেকে খতিয়ে দেখা উচিত। অযোগ্য ব্যক্তি মুল্যায়িত হলে যোগ্যরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে সাংগঠনিক ভাবেও দুর্বল হয়ে পড়বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। স্থানীয় নেতাকর্মীরা আরও দাবী জানান, দলের শৃঙ্খলা যথাযথ পর্যায়ে অনুসরণ, ভাবমুর্তি বজায়ে সর্বদা মুখ্য ভুমিকা পালনসহ দুরদর্শী ব্যক্তিত্বকে মুল্যায়ণ করে উপজেলা সম্মেলন সফল করা হোক।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ