1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. sarderamun830@gmail.com : Sarder Alamin : Alamin Sarder
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

হিজাব মামলায় ভিন্নমত দুই বিচারপতির, মামলা যাচ্ছে বৃহত্তর বেঞ্চে

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৯ 0 বার সংবাদি দেখেছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক // হিজাব মামলায় কর্নাটক হাই কোর্টের রায় নিয়ে ঐকমত্যে আসতে পারল না সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার এই মামলায় ভিন্নমত পোষণ করলেন দুই বিচারপতি। কর্ণাটক হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যে মামলা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার ছিল তারই রায়দান। ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি এ দিন দুই মত পোষণ করেছেন। বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তা ও বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার মতামত আলাদা হওয়ায় মামলা যাচ্ছে বৃহত্তর বেঞ্চে।

গত ১৫ মার্চ এই মামলার রায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করেছিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুসলিম ছাত্রীদের একাংশ। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সেই রায় বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত। কিন্তু বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া বলেন, ‘হিজাব পরা নিজের পছন্দের বিষয়।’

বিচারপতির ধুলিয়ার মতে, ধর্মাচরণ প্রত্যেকের নিজস্ব পছন্দের বিষয়। সংবিধানের ১৪ ও ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বিচারপতি বলেন, হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত ভুল। তিনি বলেন, ওই ছাত্রীদের পড়াশোনাটাই আমার কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কি তাদের জীবনে আলো দেখাতে পারছি।

অন্যদিকে বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তা বলেন, আমার রায়ে ১১ টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে। আমি আবেদন খারিজ করার প্রস্তাব দিচ্ছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করার পক্ষেই রায় দেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে কর্নাটকের উদুপির একটি প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজে কয়েক জন হিজাব পরিহিত পড়ুয়াকে ক্লাসে বসতে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটে। কলেজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি বিজেপি বিধায়ক রঘুপতি ভট্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হিজাব পরিহিতরা ক্লাসে ঢুকতে পারবেন না। সেই বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য জুড়ে। হিজাবের পাল্টা হিসাবে গেরুয়া উত্তরীয় পরে আন্দোলন শুরু করে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। কয়েকটি জায়গায় হিজাবের পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গেও একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

হিজাব ঘিরে সেই বিতর্কের আবহে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পোশাক-নির্দেশিকা জারি করেছিল কর্নাটকের বিজেপি সরকার। কর্নাটক শিক্ষা আইন ১৯৮৩-এর কথা উল্লেখ করে ওই নির্দেশিকায় বলা হয়, কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট করে দেয়া পোশাক পরেই পড়ুয়াদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে হবে। তবে যে সব কলেজে কোনও পোশাকবিধি নেই, সেখানে এমন পোশাক পরা যাবে না, যাতে শিক্ষাঙ্গনের ভারসাম্য, ঐক্য এবং শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। আদালতে কর্নাটক সরকার জানিয়েছে, ওই নির্দেশিকার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনও সম্পর্ক নেই। হিজাবের পাশাপাশি নিষিদ্ধ করা হয়েছে গেরুয়া উত্তরীয়ও।

কর্নাটকের বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উদুপির কয়েক জন মুসলিম ছাত্রী কর্নাটক হাই কোর্টে রিট আবেদন দাখিল করেন। তারা আদালতকে জানান, হিজাব পরা তাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। কোনও ভাবেই তা বাতিল করা যায় না। কিন্তু গত ১৫ মার্চ কর্নাটক হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে সরকারি নির্দেশিকায় সিলমোহর দেয়। রায়ে বলা হয়, হিজাব পরাকে ধর্মাচরণের প্রয়োজনীয় অঙ্গ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

উল্লেখ্য, এবার এই মামলার শুনানি হবে তিন বিচারপতির বেঞ্চে। সেই বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তীতে ৯ বিচারপতি বেঞ্চে এই মামলা যাবে কিনা।

সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ