1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. sarderamun830@gmail.com : Sarder Alamin : Alamin Sarder
শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
বিভিন্ন জেলা,উপজেলা-থানা,পৈারসভা,কলেজ ও ইউনিয়ন পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক ।

কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক বিক্রি, বাধা দিয়ে বিপাকে ছাত্রলীগ নেতা

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৮ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল // বরিশালের উজিরপুরে সরকারি শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রিতে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাদের বাধা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন শাকিল মাহমুদ আউয়াল নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। তিনি ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

 

 

কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক কারবারিদের প্রবেশ ও সরবরাহে নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত করে মাদক বিক্রেতারা। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাধর সেই মাদক বিক্রেতারা এবার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানিও করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা আরিফ মীর, মারজু বিশ্বাস, জাহিদ মীর, শান্ত মৃধা ও মো. হোসেনসহ বেশ কয়েকজন মিলে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে গাঁজা-ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলো। শুধু বিক্রি নয়, বহিরাগত এসব যুবকেরা প্রায়ই ক্যাম্পসের মধ্যে থাকা একটি পুরাতন টিনের ঘরে বসে মাদক সেবনও করতো। এনিয়ে কলেজের অধ্যক্ষসহ ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের একাধিকবার নিষেধ করে হুমকির সম্মুখিনও হয়েছেন।

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টম্বর কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক বিক্রির বিষয়টি কলেজ শাখার ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি জুলমত সরদার জানতে পেরে মাদক বিক্রেতা আরিফ ও শান্ত মৃধাকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা আরিফ, শান্ত, মারজু, জাহিদ ও মো. হোসেনসহ আরও কয়েকজন মিলে ক্যাম্পাসের মধ্যেই ছাত্রলীগ নেতা জুলমতকে মারধর করে। তাৎক্ষনিক বিষয়টি জুলমত তার কলেজ শাখার সভাপতি শাকিল মাহমুদ আউয়াল খানকে জানায় এবং তিনি ঘটনাস্থলে আসলে তাকেও লাঞ্চিত করে ওইসব মাদক বিক্রেতারা।

 

 

একপর্যায়ে খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ সদস্যরা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পরে সবশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদক বিক্রেতা মারজু ও শান্তকে মাদক সেবনরত অবস্থায় শিকারপুর লঞ্চঘাট এলাকায় পেয়ে তাদেরকে মারধর করে কলেজ শাখার বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। এর পরপরই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আরিফ মীর, মারজু বিশ্বাস, জাহিদ মীর, শান্ত মৃধা ও মো. হোসেনসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতা আউয়ালের বড় ভাইয়ের ‘বধূয়া ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর’ নামের দোকানে প্রকাশ্যে তান্ডব চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট করে। ভেঙে গুড়িয়ে দেয় দোকানের কয়েকটি আলমিরা, সামনে রাখা ব্যবসায়ী বড় বড় ভাইয়ের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন। লুটে নেয় দোকানের বিভিন্ন মালামাল ও নগদ টাকা।

 

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতার বড় ভাই শিকারপুর বন্দর ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. করিম খান বাদী হয়ে ওইদিনই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের মামলা না নিয়ে উল্টো মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দেওয়া মামলাটি গ্রহণ করে। যাতে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল মাহমুদ আউয়াল ও তার বড় ভাই করিম খানকে আসামি করা হয়েছে। শুধু মামলা করেই ওই মাদক বিক্রেতারা ক্ষান্ত হয়নি। স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ নেতাসহ তার ভাইয়ের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে বিক্ষোভ মিছিলও করেছে মাদক বিক্রেতারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসে গাঁজা ও ইয়াবা মাদক বিক্রির মূল হোতা আরিফ মীর (৩৫) উপজেলার পূর্ব মুন্ডুপাশা এলাকার মীর আব্দুল হাইয়ের ছেলে।

 

 

২০১৯ সালের ৩০ মে এই আরিফ মীরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাড়ির ছাদের ওপর থাকা টবের মধ্য থেকে ১ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি গাঁজার গাছসহ আরিফকে আটক করেছিলেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৮) সদস্যরা। ওই ঘটনায় তৎকালীন র‌্যাব-৮, বরিশাল সিপিএসসির ডিএডি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে উজিরপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরিফের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। যা এখনও চলমান রয়েছে। তাছাড়া গাঁজা গাছসহ গ্রেপ্তারের মামলার পর বছর ঘুরতেই এই আরিফ মীর উপজেলার নতুন শিকারপুর এলাকাস্থ একটি পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের হাতে আটক হয়।

 

 

এদিকে ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা আউয়ালের বড় ভাই শিকারপুর বন্দর ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. করিম খান অভিযোগ করে বলেন, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে আমার দোকানে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে আমার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনটিও ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। যার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। আমি চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হোক। ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা শাকিল মাহমুদ আউয়াল খান অভিযোগ করে বলেন, চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা আরিফ মীরসহ তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই শেরে বাংলা কলেজ ক্যাম্পসে মাদক বিক্রি করতো। যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমার ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী মাদক বিক্রেতাদের হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি আমি নিজেও লাঞ্চিত হয়েছি। তিনি আরও বলেন, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধাচরণ করায় তারা আমার ভাইয়ের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। সেই সাথে আমি ও আমার ব্যবসায়ী বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করিয়েছে।

 

 

এমনকি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে আমিসহ আমার পরিবারকে হয়রানি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আমি চাই পুলিশ-প্রশাসন যেন ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জানান, ‘স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে।’ ওসি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের অভিযোগে ত্রæটি থাকায় তা সংশোধন করে দিতে তাদের বিলম্ব হওয়ায় এখনও কোনো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে মামলা রুজুর পরেই আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ