
নিজস্ব প্রতিবেদক // ঢাকার কেরানীগঞ্জে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত টিসিবির পণ্য কার্ডধারীদের না দিয়ে রাতের আঁধারে দোকানে বিক্রি করতে এসে ধরা পড়েছে আব্দুল কাইয়ুম (৩৩) ও আশরাফ আলী (৩০) নামে দুই ব্যক্তি।
তাদের দুইজনের একজন মালবাহী পিকাপ ড্রাইভার ও অন্যজন লেবার বলে জানা গেছে।
আটক মালামালের মধ্যে রয়েছে ২৭০ লিটার তেল, ৩০০ কেজি ডাল, ৩০০ কেজি ছোলা ও ৩০০ কেজি চিনি। এ সময় জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়ে বাস্তা ইউনিয়নের ডিলার নেওয়াজ আলী।
আটক আব্দুল কাইয়ুম জানান, তারা বাস্তা ইউনিয়নের দড়িগাও এলাকা থেকে রোহিতপুর বাজারে ভাড়ায় এসেছেন । এর মালিক নেওয়াজ আলী আমাদের বলেছে এরশাদের দোকানে মালগুলো পৌঁছে দিতে।
আমি এর বেশি কিছু জানি না। এখন শুনি এগুলো সরকারি পণ্য। তবে নেওয়াজ আলীর এক স্বজন জানিয়েছে এটা নেওয়াজের ভাগনে আশিকের কাজ। আশিকই তার নামে ডিলার নিছে। নেওয়াজ এ ব্যাপারে কিছুই জানে না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এক মেম্বার জানান, রাত ৯ টার দিকে একটি পিকাপ থেকে সন্দেহজনকভাবে কিছু মালামাল দ্রুত একটি দোকানে নিয়ে যাচ্ছিল।
তাদের দেখে আমাদের সন্দেহ হলে গিয়ে দেখি এগুলো টিসিবির পণ্য। পরে জনতার সাহায্যে পুলিশ এসে দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তবে মূল হোতা পালিয়ে গেছে।
বাস্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশকর আলী বলেন, গত ৫ এপ্রিল (মঙ্গলবার) ইউনিয়নের দুটি ডিলারের মাধ্যমে তিনশত কার্ডধারীকে দুই লিটার করে তেল, দুই কেজি করে ডাল, চিনি ও ছোলা দেওয়ার দেওয়ার কথা থাকলেও তা আসেনি বলে আমাকে জানায় নেওয়াজ আলী।
মালামাল আটকের ব্যাপারে এখনই শুনলাম। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু সালাম মিয়া জানান, রমজান মাসে মানুষ যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যসামগ্রী পায়, এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ভর্তুকি দিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সহায়তা দিচ্ছেন৷ আর কিছু অসাধু লোক এ নিয়ে কারসাজি করছে, কালোবাজারে বিক্রি করছে।
টিসিবির পণ্যসহ পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ডিলারকেও আটকের চেষ্টা চলছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।